সত্যের যুগের বাদশাহ সূফী সম্রাট

সত্যের যুগের বাদশাহ সূফী সম্রাট

এ. আর. এম. আমিরুল ইসলাম: মহান রাব্বুল আলামিন মানুষকে তাঁর প্রতিনিধির মর্যাদা দান করেছেন। তিনি পবিত্র কুরআনে বলেন, “ইন্নী জা‘ইলুন ফিল আরদি খালীফা।” অর্থাৎ- “আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি।” (সূরা আল বাকারাহ ২, আয়াত ৩০) মানুষ সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও মর্যাদাবান। তাই মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বলেছেন। আবার এই সৃষ্টিকুলের সেরা মানুষ নিজকর্মের কারণে প্রতিনিধির মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। তখনি মহান রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির সেরা মানুষের মর্যাদাবান করার জন্য, তাঁরই প্রতিনিধিরূপে অলী-আল্লাহ্ প্রেরণ করেন। মহান আল্লাহ্ বলেন, “আর আমি যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন একদল আছে, যারা সত্য পথ দেখায় এবং সেই অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।” (সূরা আল আ‘রাফ ৭: আয়াত ১৮১) অন্য আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, “আর প্রত্যেক স¤প্রদায়ের জন্যই রয়েছে হাদী বা পথপ্রদর্শক।” (সূরা আর রা‘দ ১৩: আয়াত ৭) মহান আল্লাহ্ তাঁর মানুষের মধ্য থেকে প্রতিনিধি সৃষ্টি করেন। সেই মানুষকে জগতের সকল গুণে গুণী করে সবার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন। যেমনিভাবে হযরত আদম (আ.)-কে সকল ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করে সেজদা করার নিদের্শ দেন। নবুয়তের যুগে যাঁকে আল্লাহ্ নবি ও রাসুল নির্বাচন করেন, তাঁদেরকেও সকলের উপর সম্মান দান করেন। তেমনি বেলায়েতের যুগে যাকে আল্লাহ্ শ্রেষ্ঠ বন্ধুর মর্যাদা দেন, তিনিও জগতের সকল মানুষের চেয়ে সম্মানিত হন। অলী-আল্লাহ্গণের ইতিহাস থেকে জানা যায়, তাঁরা বিরল এক সম্মানের অধিকারী হয়ে জগতের বুকে আগমন করেন। আমাদের মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেব্লাজান। এই মহামানব ১৯৪৯ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন থেকে এই মহামানবের জীবনী মোবারক অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ণ। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর নায়েবে রাসুল হওয়ার বাসনায় মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের পর সেনাবাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় পিরানে পির, দাস্তগির সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া মোজাদ্দেদীয়া তরিকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)-এর নিকট থেকে বায়াত গ্রহণ করেন। বায়াত গ্রহণের পর মোর্শেদের নিদের্শে শিক্ষকের পদ ইস্তফা দিয়ে মোর্শেদের দরবারে সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। সূফী সম্রাটের প্রতি ইমাম হুজুরের ভালোবাসা ছিল অগাধ। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের প্রতি আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.) সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বিরল সম্মান দান করেন। তেমন একটি ঘটনা পাঠকদের নিকট উপস্থাপন করছি-


সত্যের যুগের সংবিধান অনুমোদন
মুন্সীগঞ্জের বাসেদ নামক জনৈক ব্যক্তি স্বপ্নে ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) হুজুরের তরিকা গ্রহণ করে এরপর তার জজবা হয়। একদিন সকালে তিনি চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে গিয়ে হাজির হন। সেটা ছিল তার প্রথম দরবার শরীফে গমন। ইমাম হুজুর যখন দায়রা শরীফে তাশরীফ নিলেন, তখন বাসেদ দৌড়ে গিয়ে হুজুরের কদম মোবারক এমনভাবে জড়িয়ে ধরেন যে, ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী হুজুর শরীর মোবারকের ভারসাম্য রাখতে না পেরে মাটিতে পড়ে যান। তখন সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান-সহ অন্যান্য জাকের দৌড়ে গিয়ে বাসেদকে ছাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি এমন শক্ত করে ইমাম হুজুরের কদম মোবারক জড়িয়ে ধরে রাখেন তাকে ছাড়ানো সম্ভব হয় না। উপায়ন্তর না দেখে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী অনেক কৌশল করে ইমাম হুজুরের কদম মোবারক ছাড়ান। এরপর সবাই মিলে বাসেদকে প্রহার করতে উদ্যত হলে ইমাম হুজুর সকলকে নিষেধ করেন। তখন বাসেদ দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে সে ১৪ দিন এক নাগাড়ে না খেয়ে কাটায়। প্রায় সব সময় তিনি দরবার শরীফের সবচেয়ে বড়ো গরুর পেটের নিচে শুয়ে থাকতেন। কেউ ডাকলেও সেখানে থেকে বের হতেন না। বিশাল আকৃতির গরুর পায়ের চাপে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা হতে পারতো। কিন্তু সেদিকে তার কোনো ভ্রæক্ষেপ ছিল না। গরুটিও কোনো উৎপাত করত না। এভাবে ১৪ দিন অনাহারে কাটানোর পর তার উপর সূফী সম্রাটের রাগ কমে গেলো। তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন, এভাবে লোকটা তো মারা পড়বে। তিনি ঘটনাটি ইমাম হুজুরকে জানালেন, তিনি বাসেদকে ডেকে আনতে বললেন। হুজরা শরীফে বসে তিনি বাসেদকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী চাও?” জবাবে বাসেদ বলল- আপনি দয়া করে সত্যের যুগ কায়েম করেন, আমি আর কিছু চাই না।” ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.) হুজুর তখন বললেন, “এজন্য কী করতে হবে?” সে বলল সত্যের যুগের সংবিধান অনুমোদন করতে হবে। ইমাম হুজুর বললেন, “সেই সংবিধান কোথায়?” বাসেদ তখন কাগজ কলম আনার জন্য অনুরোধ করলেন। ইমাম হুজুর তখন সূফী সম্রাটকে কাগজ কলম আনতে বললেন। কাগজ কলম আনার পর সত্যের যুগের সংবিধানের ধারা বাসেদ একে একে বলে যেত লাগলেন, আর সূফী সম্রাট তা লিখে রাখলেন।
প্রথমে বাসেদ সত্যের যুগের বাদশাহ্র নাম হিসেবে সূফী সম্রাটের নাম লিখতে বললেন। তারপর তিনি অন্যান্য বিষয়ের অনুচ্ছেদ একের পর এক বলতে লাগলেন একজন বিজ্ঞ আইনজ্ঞের মতো। অথচ তিনি ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। সূফী সম্রাট বলেন, “পাতার পর পাতা লিখতে লিখতে আমার হাত ব্যথা হয়ে যায়। এক সময় সত্যের যুগের সংবিধান লেখা শেষ হলে বাসেদ কাগজগুলি চেয়ে নিলো।” ইমাম হুজুর জানতে চাইলেন, “এখন কী করা হবে?” বাসেদ কাগজগুলি ইমাম হুজুরের হাতে দিয়ে বললেন- আপনি দয়া করে সই করে দেন। ইমাম হুজুর যখন সই করছিলেন, তখন সূফী সম্রাট রহস্য করে বাসেদকে বলছিলেন, “বেশ বেশ, যার রাজ্য নাই, প্রজাও নাই তাকেই তুমি সত্যের যুগের বাদশাহ বানালে।” ইমাম হুজুর সই করা হলে কাগজগুলি নিয়ে বাসেদ বাড়ি ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। খাওয়া দাওয়া করে যাওয়ার সময় বাসেত বলেন আমাকে এই দায়িত্ব পালন করার জন্য এখানে পাঠনো হয়েছিল। [তথ্য সূত্র: ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৬]


প্রিয় পাঠক! আপনারা জানতে পারলেন আমাদের মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে ইমাম হুজুরের মাধ্যমে আল্লাহ্ সত্যের যুগের বাদশাহ মনোনীত করেছেন। যার প্রমাণ পূর্ণিমার চাঁদে সুফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের নুরারিময় চেহারা মোবারক দেখিয়ে সত্যের যুগের বাদশাহর প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমরা এই মহামানবকে ভালোবেসে স্মরণে রেখে তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরের পরামর্শ অনুযায়ী ধর্ম পালন করে আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর নৈকট্য লাভ করতে পারি। আমিন। পরিশেষে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজনের ৭৪তম শুভ জন্ম দিনে জানাই লাখ সালাম ও কদমবুসি।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *