বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.)

বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.)

মোহাম্মদী ইসলাম আপনাকে চরিত্রবান বানানোর শিক্ষা দেয়
মোহাম্মদী ইসলাম মানুষকে মহান আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার শিক্ষা দেয়। ইসলাম সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে ‘ইসলাম’ শান্তির ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও আমরা ধর্ম থেকে শান্তি হারিয়ে ফেলেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও ইসলামে শান্তি বিরাজ করছে না। সারা বিশ্বের দিকে যদি তাকাই ইসলামে মুসলমানদের মাঝে মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি প্রমাণ করে দেয় আজ আমরা কতটুকু শান্তিতে আছি। শান্তির ধর্ম ইসলামে আজ অশান্তির ঘনঘটা। আঞ্চলিক কোর্ট, জজ কোর্ট, হাইকোর্টের দিকে যদি তাকানো যায়, মামলার পাহাড়ই বলে দিবে ইসলামে শান্তির অবস্থা কোথায়। ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি, সন্তানের সাথে পিতার মারামারি, ভাইয়ের সাথে বোনের মারামারি, এক শতক জমির জন্য একে অপরের সাথে কামড়াকামড়ি। কেউ কাউকে এক প্লেট খাবারের জন্য ছাড়ি না, এক গ্লাস পানির জন্য ছাড়ি না। একটু হক আমরা ছাড়ি না। আমরা সবাই একরকম মানুষরূপী পিশাচে পরিণত হয়ে যাচ্ছি। দিনে দিনে আধুনিক সভ্যতা আমাদের দিকে এগিয়ে এসেছে সত্য, আমাদের জীবনে আধুনিকতা এসেছে সত্য, কিন্তু আমাদের মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এই মানুষরূপী মানুষগুলোর ভিতরে যেন পশুর বসবাস দেখা দেয়। কেউ হিংস্র, কেউ জুলুমবাজ, কেউ অত্যাচারী, কেউ হত্যাকারী, কেউ নির্যাতনকারী। নানাবিধভাবে আমাদের নিজের ভিতরের মনুষ্যত্বতা কেন যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

আসলে মোহাম্মদী ইসলাম আবার আপনাকে সেই মনুষ্যত্বকে ফিরিয়ে আনার শিক্ষা দেয়। সমাজে ধর্ম আছে তবে ধার্মিক লোক হারিয়ে গিয়েছে। ইবাদত আছে কিন্তু ইবাদতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা লোক হারিয়ে যাচ্ছে। নামাজ আছে, কিন্তু নামাজে আত্মসমর্পণকারী হারিয়ে যাচ্ছে। রোজা আছে, কিন্তু যে রোজায় আত্মত্যাগ হওয়ার কথা, যেই সংযম হওয়ার কথা সেই সংযম হারিয়ে গিয়েছে। আজ রোজার মাস আসলে দেখা যায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। কাপড়ের দাম ঊর্ধ্বগতি, জামার দাম ঊর্ধ্বগতি, মাংসের দাম ঊর্ধ্বগতি, আলু-পিঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বগতি। কিন্তু কেন? রোজা তো সংযমী হওয়ার কথা বলে। ১০০ টাকার জায়গায় সেটিকে ডিসকাউন্ট দিয়ে রোজার মাসে ৭০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেটি ১৫০ টাকা, ২০০ টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। ইহাই প্রমাণ করে মানুষ আছে, মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে।

আজ আমরা ২০২৪ সনে এসেছি। এমন একটি জায়গায় আমরা এসেছি, যুগ আধুনিক হয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমরা পিশাচে পরিণত হচ্ছি। যুগ আধুনিক হয়ে যায়, কিন্তু আমরা মানুষের কাছ থেকে মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলছি। নানা ধর্ম, নানা তরিকা, নানা দল, নানা মত সৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু মানুষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যার দরুণ আজ আমাদের অবস্থা এই। বিশ্বাস করুন, আপনি যদি আল্লাহ্কে পেতে চান প্রথমেই আপনাকে আল্লাহ্তে আত্মসমর্পণের বিদ্যা শিখতে হবে। দুঃখের বিষয়, বিশ্বাস করুন মুখে মুখে আমরা আল্লাহ্তে আত্মসমর্পণ করি, অথচ মন থেকে আত্মসমর্পণ করি না। জানেন, আল্লাহ্কে পাওয়ার জন্য কিরূপ আত্মসমর্পণ করতে হয়? আমার কাছে শিখতে চান? এইভাবে আত্মসমর্পণ করুন, “ওগো দয়াল মাওলা! দয়াল খোদা! আমি আমার নয়, আমি তোমাতে বিলিন হতে চাই; আমি আমার ইচ্ছায় নয়, আমি তোমার ইচ্ছায় চলতে চাই; আমি আমাকে নয়, আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই; আমি আমার জন্য নয়, আমি তোমার জন্য বাঁচতে চাই; আমি আমার নয়, আমি তোমার দেখানো পথে চলতে চাই।” এইরকম যেদিন আত্মসমর্পণ করবেন, আল্লাহর কসম দেখবেন আল্লাহ্ আপনার সামনে হাজির হয়েছে।

আপনারা অনেকেই জানেন, আমি শিক্ষকতা করি। এখন তরিকার কারণে শিক্ষকতা করার সময় কম পাই। এক সময় ফুল টাইম শিক্ষকতা করেছি। একদিন আমার এক ছাত্র আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার! শুনলাম, আপনার দরবারে না-কি অনেক মুরিদ আল্লাহ্কে পেয়েছে। আমরা কেন আল্লাহ্কে পাই না? আমরা কি কারণে আল্লাহ্কে পাই না, তাঁকে দেখি না, বলুন তো? আমি বললাম, আপনার আর তার মধ্যে পার্থক্য আছে। তিনি বললেন, স্যার কি পার্থক্য? আমি বললাম, আপনাকে যদি ১ দিন না খাইয়ে রাখা হয়, আপনার ক্ষুধা কেমন লাগবে? আমার ছাত্র আমাকে জবাব দিলো, কি বলেন স্যার। এটি তো অনেক ক্ষুধার বিষয়। আমি বললাম, যদি আপনাকে ৭ দিন না খাইয়ে রাখে, তাহলে ক্ষুধা কেমন হবে? তিনি জবাবে বললেন, স্যার ৭ দিন না খাইয়ে রাখলে তো বাঁচবো না। আমি বললাম, না আল্লাহ্ যদি বাঁচিয়ে রাখেন? বললো, স্যার শুধু খেতে চাই, আর কিছু চাই না। আমি বললাম, এইবার যদি ১ মাস না খাইয়ে রাখা হয়, আপনার ক্ষুধা কেমন হবে? বললো, স্যার যা দিবেন তাই খাবো। গাছের পাতা দিলে তাই খাবো, যদি মল খেতে বলেন তাই খাবো। শুধু একটু খেতে চাই, এমন ক্ষুধা আমার হবে। আমি বললাম, যেদিন আপনি নিজের মালিককে পাওয়ার জন্য নিজের ভিতরে ১ মাসের ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মতো ক্ষুধা অনুভব করবেন, আল্লাহর কসম! দেখবেন আল্লাহ্ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সমস্যা হচ্ছে মালিককে পাওয়ার জন্য যতটুকু চাহিদা আমাদের দরকার, ক্ষুধা আমাদের দরকার, নিজেদের মধ্যে ততটুকু চাহিদা, ততটুকু ক্ষুধা আমরা অনুভব করতে পারি না।

আজ আশেকে রাসুলেরা দেশ-বিদেশ থেকে এসেছেন, একটি কথার জবাব দিন আমাকে। একটি কথা আপনার কাছে জানতে চাই। যারা বিবাহ করেছেন অর্থাৎ যাদের স্ত্রী আছে অথবা যাদের পিতা-মাতা জীবিত আছে বলুন! স্ত্রীর কাছে, পিতা-মাতার কাছে কতবার জীবনে সরি বলতে হয়? স্ত্রীর কথা আজ শুনলাম না, স্ত্রী মন খারাপ করলো, বলতে হয় আচ্ছা ভুল হয়ে গিয়েছে, কাল ঠিক করে নিবো। কি সত্য না, মিথ্যা বলুন? বাচ্চার কাছে আসতে হয়, বাচ্চা বলে, বাবা তোমার আজ চকলেট নিয়ে আসার কথা ছিল, তুমি আজ চকলেট আনোনি। বাচ্চাকে বলি আচ্ছা বাবা ভুল হয়ে গিয়েছে, সরি, কালকে তোমার জন্য চকলেট নিয়ে আসবো। সত্য, না মিথ্যা বলেন? বাবা-মা বললো তুমি আজ আমার জন্য এটি নিয়ে আসবে অথচ আমি আসার পথে ভুলে গেলাম, বাবা-মার কাছে আমাকে সরি বলতে হয়। সরি শব্দটি এক সময় ছিল কঠিন। এখন এটি মধুর হয়ে গেছে। কি বলেন, মধুর সম্পর্কের জন্য স্যরি বলতে হয়? আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে! যতবার নিজের স্ত্রীকে সরি বলেছেন, যতবার নিজের বাবা মাকে সরি বলেছেন, যতবার নিজের সন্তানকে সরি বলেছেন, কতবার আল্লাহ্কে সরি বলেছেন, বলুন? নিজের মালিকের কাছে কতবার নিজের ভুল-বেয়াাদবির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, বলুন? স্ত্রীর কাছে যতবার সরি বলেছি, মালিকের কাছে কি ততবার সরি বলেছি? যে আল্লাহ্ আমাকে সৃষ্টি করলেন, যে আল্লাহ্ আসমান দিলেন, যে আল্লাহ্ জমিন দিলেন, যে আল্লাহ্ বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দিলেন এবং যে আল্লাহ্ মাটিকে হুকুম দিয়ে বললেন, তুমি উর্বর হয়ে যাও আমার মানুষ যাতে তাতে শস্য উৎপন্ন করে খেতে পারে। গবাদি পশুকে বললেন, মানুষ তোমাকে জবাই করে খাবে, তবুও তুমি তাকে ছেড়ে যেও না। তার উঠানেই বসবাস করো, গবাদি পশু তার উঠানেই বসবাস করে। আপনি কি মনে করেন, দিনশেষে সেই পশু জানে না, আপনি তাকে জবাই করে খাবেন? জানে। আপনি বলুন, যদি আপনাকে জবাই করা হবে আপনি টের পেতেন আপনি কি থাকতেন? ওই এলাকায় ধারে-কাছে আপনি থাকতেন? দেখুন, এই পশু-পাখি মুরগি, ছাগল সবকিছু জানে। তার পাশেরটিকে (পশুকে) আপনি জবাই করলেন, পরদিন সে আবার আপনার জায়গায় ঘাস খাচ্ছে এবং দুধ দিচ্ছে। একবার কি চিন্তা করে দেখেছি? কারণ আল্লাহ্ হুকুম দিয়েছেন, “আমার বান্দা তোমাকে ভক্ষণ করবে। তোমাকে হত্যা করা হবে, তুমি বান্দার জন্য হত্যা হও। তুমি তাকে ছেড়ে যেও না।” যে আল্লাহ্ আমাদের সকল কিছুর ব্যবস্থা করলেন, আল্লাহ্ তার বিনিময়ে শুধু একটি কথা আমাদের বললেন, “দুনিয়ায় যাও আমার ইবাদত করো, আমার সন্তুষ্টি অর্জন করেন।” আর কিছু চাননি। বলেছেন, আমাকে টাকা-পয়সা কিছু দাও? বলেছেন, আমাকে বাড়ি-গাড়ি কিছু করে দাও? কি বলেছেন? একটি ছোট্ট জিনিস! আমার ইবাদত করো, আমার সন্তুষ্টি অর্জন করো। বলুন দেখি, আমরা কি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি? ছোটবেলা থেকে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ পাপ করেছি! মালিক তিনি সবকিছু সৃষ্টি করে দিলেন। আসমান, জমিন, গ্রহ, নক্ষত্র, তারা সবকিছু অথচ তাঁর কাছে আমরা কয়বার ক্ষমা চাই দিনে, কতবার মাফ চাই বলুন? আর সম্পর্ক সুখের করতে স্ত্রীর কাছে কতবার মাফ চাই, সন্তানের কাছে কতবার চাই, ভাইবোনদের কাছে কতবার চাই, বাবা মার কাছে কতবার চাই? তাহলে বুঝবেন আল্লাহ্কে আমরা কেন পাচ্ছি না? কারণ আমরা ওই পর্যায়ে নিজেকে নিতে পারছি না।
মোহাম্মদী ইসলাম আপনাকে সেই শিক্ষা দেয়, যে শিক্ষায় আপনি মানুষকে ভালোবাসবেন, মহান রাব্বুল আলামিনকে ভালোবাসবেন। যে শিক্ষায় আপনি নিজেকে চরিত্রবান বানাতে পারবেন। ধর্ম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান কম। আমরা অনেক শরিয়াহ্ সম্পর্কে অবগত হই, কোরআন হাদিস সম্পর্কে অবগত হই, অনেক ইবাদত সম্পর্কে অবগত হই, কিন্তু মূল লক্ষ্য সম্পর্কে আমরা জানি না। ধর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। না-কি আর কিছু? আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তো নামাজ এসেছে, রোজা এসেছে, হজ এসেছে, যাকাত এসেছে। যত ইবাদত বলুন, সকল ইবাদতের মূল লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাহলে যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি না করেন, আর ইবাদতের পরে ইবাদত করতে থাকেন আর যদি ইবাদত মালিকের কাছে কবুল না হয়, তাহলে কি এই ইবাদতের মূল্য হবে?

মোহাম্মদী ইসলাম আপনাকে সেই শিক্ষা দেয়, যে শিক্ষায় আপনি নিজেকে চরিত্রবান বানাতে পারেন। আমার মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহ.) দীর্ঘ ৭১ বছর আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন. যে শিক্ষায় আমরা নিজেদের চরিত্রবান বানাতে পারি। আমাদের মোর্শেদ আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা যাতে নিজেদের চরিত্রবান বানিয়ে নিজেদেরকে আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর পথে ধাবিত করতে পারি। মোর্শেদের ওফাত পরবর্তীতে আমি কুদরত এ খোদা আপনাদের সেই একই শিক্ষা দিচ্ছি, যে শিক্ষায় আপনি আল্লাহ্কে পেতে পারেন। আমি সেই রাস্তা জানি, সে রাস্তায় আপনি যদি চলেন, আপনি মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। আমি সেই পথ দেখাতে পারি, যে পথে আপনি হাঁটলে আমার মালিক সন্তুষ্ট হবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনি সেই পথে হাঁটবেন কি-না? আপনি সেই পথে চলতে চান কি-না? আপনারা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে চান? আপনারা কি হযরত রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টির পথে চলতে চান? আপনারা কি নিজেকে চরিত্রবান বানাতে চান? তাহলে আমি যে বিদ্যা শিক্ষা দেই সেই বিদ্যা অনুসরণ করুন। আমি প্রতিনিয়ত আশেকে রাসুলদের শিক্ষা দিচ্ছি, যে পথে আপনি পাপ থেকে নিজেকে দূরীভূত রাখতে পারবেন; অন্যায় থেকে নিজেকে দূরীভূত রাখতে পারবেন; নিজেকে চরিত্রবান বানাতে পারবেন। অতএব সেই পথ অনুসরণ করুন।

দুঃখের বিষয়, এখানে আমাদের ধৈর্য কম। আজ আমাদের সাথে উপস্থিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ আছেন, অনেক আইনজীবী ভাইয়েরা আছেন, অনেক পেশাজীবী সংগঠনের মানুষ আছেন, অনেক আলেম-ওলামা আছেন। আজ যদি আপনাদের প্রশ্ন করা হয়, কামেল পাশ করতে কত বছর লেগেছে? কামেল পাশ করতে ১৬ বছর নিয়েছেন। মাস্টার্স পাশ করতে ক্লাস ওয়ান থেকে কত বছর লাগে? ২৪/২৫ বছর লাগে। ২৪/২৫ বছর আমরা পড়ি। ওয়ান থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত পড়ি, একটি ভালো অবস্থানে যেতে পারবো বলে, সত্য না মিথ্যা বলুন? কেউ ডাক্তার হই, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হই, কেউ বড় পেশায় যাই। ২৫ বছর জীবন অতিবাহিত করি, প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ক্লাস করি। মনে আছে, সকাল ৭টায় স্কুলে গেলে ১২টা/১টা পর্যন্ত স্কুলে থাকতে হতো। শুধু একটি টার্গেট, নিজের জীবনের জন্যে কিছু করার। অথচ আমরা একটি টার্গেট করার জন্য এতো পরিশ্রম করলাম, সেই টার্গেট ভুলে গেলাম। মনে করুন, যে কারনে আল্লাহ্ আপনাকে-আমাকে পাঠিয়েছেন, সেই কথা মনে আছে? আল্লাহ্ একটি টার্গেট দিয়ে পাঠিয়েছেন। আমার ইবাদত কর, আমার সন্তুষ্টি অর্জন কর। ধরুন আমরা ২৫ বছর আল্লাহর ইবাদত করেছি। কিন্তু কতটুকু সময় ইবাদত করেছি? কতটুকু সময় তাঁর সন্তুষ্টির জন্য অতিবাহিত করেছি? হিসাব করুন। এখানে আসলে বলি, আমাদের সময় নেই। এখানে আসলে আমরা ঘড়ি দেখি কয়টা বাজে। একসময় আপনিই কিন্তু স্কুলে ৭ ঘন্টা/৮ ঘন্টা বসে থেকেছেন। ভুলে যান কেন সেইদিনের কথা? মনে করুন সেইদিন, যেইদিন আপনার আমার সৃষ্টিকর্তার সাথে আমাদের মধুর মিলন হবে। মনে করুন সেইদিনের কথা, যেইদিন আর আপনার-আমার পা চলবে না। অন্যজন খাটিয়ায় করে নিয়ে যাবে। স্মরণ করুন সেইদিন, যেইদিন নিজের আর কোনো ক্ষমতা নেই, লম্বা হয়ে শুয়ে পরা ছাড়া। কি জবাব দিবেন মালিকের কাছে? স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাব দিতে হবে নিজের কৃতকর্মের জন্য। কত বড় ডাক্তার, কত বড় ইঞ্জিনিয়ার, কত বড় এডভোকেট, কত বড় আলেম কিছু আসে যায় না। এক কাতারে, একসাথে দাঁড়িয়ে মালিকের কাছে জবাব দিতে হবে। একটি মাত্র উত্তর সন্তুষ্ট হয়েছেন কি হননি। একটি প্রশ্নের উত্তরে আপনার আমার খেলা ফয়সালা হবে। তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন, কি হননি। যদি সন্তুষ্ট হন ইল্লিন, অসন্তুষ্ট থাকলে সিজ্জিন। আর কোনো হিসাবের খেলা থাকবে না। আমি আপনাকে সেইদিনের জন্য প্রস্তুত করতে চাই, যেইদিন আর কারো কোনো খেলা থাকবে না। যদি মৃত্যুর আগে দুনিয়ায় বসে আপনি-আমি মালিকের সন্তুষ্টি একবার অর্জন করতে পারি, কি বলেন ভয় আছে কবরে? ভয় আছে হাশরে? ভয় আছে না-কি? ভয় নেই। তাহলে এখন থেকে সেইদিনের কথা স্মরণ করুন, যেইদিন মালিকের সামনে হাজির হতে হবে।

আমার মোর্শেদ স্বপ্ন দেখেছিলেন, সারা বিশ্বকে আলোকিত করার। তাঁর জন্মদিনে আমি আপনাদের ডেকেছি। আমি ক্ষমা চাই আপনাদের কাছে। আপনাদের বসতে দিতে পারিনি। এই গরমে আপনারা কষ্ট করছেন। আমার আপনাদের দেওয়ার মতো কিছু নেই। সূর্যের তাপে তাকাতে পারছেন না। গরমে কষ্ট করছেন। না খেয়ে বসে আছেন। আমি কি দিবো আপনাদের বলুন? আমি তো নিজেই ভিক্ষুক। আমি নিজেই তো আমার মালিকের ভিক্ষুক। আমি আমার মালিকের কাছে আপনাদের জন্য সাহায্য চাই, আমার মালিক আপনাদের এই কষ্টকে কবুল করে নিক। আমি আমার মালিকের কাছে আপনাদের জন্য দয়া চাই, যারা আজকে রৌদ্রে পুঁড়ছেন, কাল যেন মালিক আপনাদের ছায়া দান করেন, সেইদিন আপনাদের ছায়া দেন, যেইদিন মাথার উপরে সূর্য এসে দাঁড়াবে। সেইদিন যাতে তিনি দয়া করে ছাঁয়া দেন, আমি মালিকের কাছে সাহায্য চাই। যারা ক্ষুধা পেটে নিয়ে কষ্ট করে বসে আছেন আমি আমার মালিকের কাছে সাহায্য চাই, তিনি যেন আপনাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। তিনি যেন আপনাদের অভাব-অনটনগুলো দূর করে দেন। তিনি যেন আপনাদের বালা-মুসিবতগুলো দূর করে দেন। যারা অসুস্থ, বসতে কষ্ট হচ্ছে (পায়ে ব্যাথা, কোমড়ে ব্যাথা, শরীরে ব্যাথা) সকল রোগের মুক্তিদাতা তিনি, আমি সাহায্য চাই মালিক দয়া করে আপনাদের ক্ষমা করে দিক। যারা অসুস্থ, আজ আসতে পারেননি আমি তাদের জন্যও মালিকের কাছে সাহায্য চাই। আমি সাহায্য চাই, আমার মালিক তাদের কবুল করে নিক। আমি সাহায্য চাই আমার কর্মী ভাইদের জন্য, আমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমার আশেকে রাসূলেরা ২ মাস এই মাঠের মাটিতে রৌদ্রে পুঁড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ধুলা গায়ে লাগিয়ে গোলামী করেছেন।

আমি বলেছিলাম, এই সম্মেলনের আয়োজন আমি একা করতে পারবো না। সবার কাছে একটু সাহায্য চেয়েছিলাম। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক এসেছে, গোলামী করেছে, এই মাঠ তারাই সাজিয়েছে, রং তাদের হাতে হয়েছে। আমি আমার মালিকের কাছে সাহায্য চাই, “ওগো দয়াল মাওলা! দয়াল খোদা! আমি সুপারিশ করি, তুমি তাদের কবুল করে নাও। আমি সুপারিশ করি, তুমি তাদের কবুল করে নাও। সকলের গোলামীগুলো তুমি কবুল করে নাও।” এই সম্মেলনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য কলাকৌশলী, টেকনিশিয়ানসহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ, যারা যে যেখানে যেই সহযোগিতা করেছেন, আমি সকলের জন্য আমার মালিকের কাছে সাহায্য চাই, তিনি যেন দয়া করে আমাদের কবুল করে নেন। সর্বশেষ আমার আহবানে সাড়া দিয়ে আপনারা যারা সেই রাত্র থেকে এখানে বসে আছেন আমি আপনাদের আপ্যায়ন করতে পারিনি। দাওয়াত করে এনেছি, ভালোভাবে বসাতে পারিনি, জায়গা দিতে পারিনি। মাথার উপরে শামিয়ানা দিতে পারিনি। আমি জোড় হাত করে মাফ চাই, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আপনাদের মনে কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। এতো লোক আমি কিভাবে জায়গা দিবো, আমার জানা নেই। আমি আমার মালিকের কাছে আপনাদের জন্য ক্ষমা চাই, আমার মালিক যেন আপনাদের এই কষ্টগুলো কবুল করে নেয় এবং আপনাদের নুরে ইমান ভিক্ষা দেয়।

আজ বিশ্ব আশেকে রাসূল সম্মেলনে আপনারা বিদেশের প্রায় ২০টি দেশ থেকে প্রতিনিধি এসেছেন। দেশী-বিদেশি ভাইয়েরা আমি আপনাদের সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। বিভিন্ন দেশ থেকে প্লেন-এ চড়ে আমার মতো একটি নিকৃষ্ট গোলামের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন। আমি কি বলে আপনাদের ধন্যবাদ দিবো? আমি আমার মালিকের কাছে আপনাদের জন্য দয়া চাই, আমার মালিক আপনার ইহকাল, পরকালের মুক্তির ব্যবস্থা করুক। আমার মালিক আপনাদের কবুল করে নিক। আমার মালিক আপনাদের মসিবতগুলো দূর করে দিক। আমার মালিক আপনাদের অভাব-অনটনগুলো দূর করে দিক। আমার মালিক আপনাদের মকসুদ পূর্ণ করে দিক। আমার মালিক আপনাদের সবাইকে কবুল করে নিক।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *