বিশ্ব অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে

বিশ্ব অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে


দেওয়ানবাগ ডেস্ক: বিশ্ব এখন পরিবেশগত কয়েকটি ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতির (টিপিং পয়েন্ট) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা পানি সরবরাহসহ অন্যান্য জীবনধারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সংশোধন অযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। গত বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের গবেষণা শাখার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংকটের একটি পর্যায় অতিক্রম করে গেলে আর পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না এমন সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রæত গলতে থাকা হিমবাহ, অসহনীয় তাপ থেকে এবং মহাকাশ বর্জ্য।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি (ইউএনইউ-ইএইচএস) বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক সম্পদের অত্যধিক ব্যবহার বিশ্বকে ছয়টি আন্তঃসংযুক্ত ‘টিপিং পয়েন্টের’ দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
এর ফলে ‘আমাদের জীবনধারণকারী ব্যবস্থায় হঠাৎ করেই পরিবর্তন আসতে পারে, যা টলিয়ে দিতে পারে মানবসমাজের ভিত্তি।’
ইউএনইউ-ইএইচএসের গবেষক ও এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক জ্যাক ও’কনর জানান, চরম সীমাটি পার হয়ে যাওয়ার পর সমগ্র ব্যবস্থা আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তখন নতুন ঝুঁকি সামনে আসবে। আর এই নতুন ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য ব্যবস্থাগুলোতেও।’
জ্যাক ও’কনর বলেন, ‘এই বিষয়গুলো ঘটবে বলেই আমাদের ধরা নেওয়া উচিত। কারণ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এরই মধ্যে এগুলো ঘটতে শুরু করেছে।’
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনের আগে ‘ইন্টারকানেক্টেড ডিজাস্টার রিস্ক রিপোর্ট’ নামে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। প্রতিবেদনে চিহ্নিত প্রধান আন্তঃসংযুক্ত হুমকিগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুতহারে বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তি, ভ‚গর্ভস্থ পানি হ্রাস, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং প্রচন্ড তাপমাত্রার প্রবণতা।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের মধ্যেই বিশ্ব থেকে ১০ লাখ প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতিগুলো হারিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রজাতিগুলোও বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যেতে পারে। এতে ভেঙে পড়তে পারে বাস্তুসংস্থান।
বিশ্বের অনেক ভ‚গর্ভস্থ জলাধারই দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। জলের ভান্ডারগুলো বৃষ্টিপাত ইত্যাদির মাধ্যমে আবার পূরণ হওয়ার চেয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার হার বেশি দ্রুততর।
সৌদি আরব, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। হিমবাহ গলে যাওয়া থেকে সৃষ্ট পানির ধারাও কমে যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *