বিজ্ঞান ডেস্ক: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রায় এক দশক আগে দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) থেকে এরই মধ্যে ২৫৬ জন পরমাণু প্রকৌশলী বের হয়েছেন। দেশেই তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরমাণু খাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদ সৃষ্টি করে তাঁদের চাকরি দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাস্টার্স প্রগ্রাম দিয়ে প্রথমে শুরু হয়। ২০১৩ সালে স্নাতক চালু হয়। প্রতিবছর ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান।
এ পর্যন্ত স্নাতকসহ বছরের মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করে চারটি ব্যাচ বের হয়েছে। এখন ছয়টি ব্যাচ স্নাতক বিভিন্ন বর্ষে ও মাস্টার্স পড়ছে। এই বিভাগ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২৬ জন এবং পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় দুজন কর্মরত আছেন।
এমআইএসটি সূত্রে জানা গেছে, এমআইএসটিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু হয় ২০১৫ সালে। বিভাগটি থেকে এরই মধ্যে ১৫৬ জন বের হয়েছেন। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একজন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় দুজন নিয়োগ পেয়েছেন।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে, এখানে বিশেষজ্ঞ তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যত বিদেশনির্ভর থাকবে, ততই আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে থাকব। তাই দক্ষ জনবল তৈরি করে যত দ্রুতই আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বুঝে নেব ততই মঙ্গল। যেহেতু তাঁরা নিউক্লিয়ার বিষয়ে জ্ঞানসমৃদ্ধ, তাঁদের পেছনে অল্প বিনিয়োগে দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব। তাই নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করে তাঁদের চাকরি দেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে রূপুপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. শৌকত আকবর বলেন, ‘এখানে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, মেকানিক্যাল, সিভিলসহ বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ার এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন সব ধরনের জনবল নিয়েই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লাগবে। শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রেই লাগবে না, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও সংস্থায় নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লাগবে। পরমাণু নিয়ে গবেষণার কাজে এবং আধুনিক গ্রিডলাইন নির্মাণ হচ্ছে, সেখানেও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নতুন করে পদ সৃষ্টি করছি। যারা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে তাদের বসে থাকতে হবে না। বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। আরো পারমাণবিক অবকাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হবে, যেখানে নিউক্লিয়ার ও বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’
শৌকত আকবর বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে স্থায়ীভাবে এক হাজার ৬০০ জন কারিগরি জনবল প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে বড় একটি অংশ জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের জনবলকে রুশ ফেডারেশনের সহায়তায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ইউনিটের মূল পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের বেশির ভাগকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পদায়ন করা হয়েছে। কারিগরি ও অপারেশন লেভেলে যারা সহায়তা করবে তাদের প্রশিক্ষণ এখন চলমান।’
রূপপুর প্রকল্পটিতে দেশি-বিদেশি ২৪ থেকে ২৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার।
