বরগুনা সংবাদদাতা: জীবদ্দশায় শিক্ষকতা করেছেন, পাশাপাশি মানবসেবায়ও নিয়োজিত ছিলেন। গ্রামের অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন, প্রবাসীদের পাঠানো টাকাও বিশ্বস্ততার সঙ্গে স¦জনদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কখনো বই পড়া, বই লেখা, কখনো ইসলামি আলোচনা; সব সময় এসব নিয়েই থাকতেন তিনি।
নিভৃত পল্লীতে আলো ছড়ানো গুণী মানুষ আলহাজ শফিউদ্দিন মাস্টারের কথা বলা হচ্ছে। শিক্ষক শফিউদ্দিনের বাড়ি পাথরঘাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর আদি বাড়ি বরগুনার নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে। নিভৃত পল্লীতে আলো ছড়ানো এবং চিঠি বিতরণ করা সেই মানবিক মানুষ শফিউদ্দিন মাস্টার মারা গেছেন সম্প্রতি। অনেকের মতে, তাঁর এমন কাজ সমাজে উদাহরণ হয়ে থাকবে। ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা কলেজে ঈদে মিলাদুন্নাব (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, শফিউদ্দিন মাস্টার একজন মানবিক এবং গুণী মানুষ ছিলেন। তিনি শিক্ষকতা পেশায় যেমন আলো ছড়িয়েছেন তেমনি অবসরে গিয়েও আলো ছড়িয়েছেন। এমন মানুষের দেখা মেলে না সহজে। তাঁর কাজ সমাজে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
১৯৯৪ সালে বরগুনার নিশানবাড়িয়ার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান তিনি। পাথরঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষকতা করেছেন। অবসরে গিয়েও বসে ছিলেন না। লেখালেখি আর মানবসেবা, গ্রামের সাধারণ মানুষকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসাসেবা এবং ডাক বিভাগ থেকে প্রাপকের কাছে চিঠি দিয়ে আসতেন। এমন সেবা দিয়ে গেছেন মৃত্যুর ঠিক আগ পর্যন্ত। যে কারণে উপজেলায় মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই শিক্ষক। শিক্ষকতা থেকে অবসরে এসে তিনি বরগুনা, নিশানবাড়িয়াসহ আশপাশের গ্রামগঞ্জে ও পাথরঘাটার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে কাজ করেছেন। জীবদ্দশায় একাধিক বই লিখেছেন এই শিক্ষক। পাথরঘাটা লেখক পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
প্রবীণ সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, শফিউদ্দিন মাস্টার একজন মানবিক এবং গুণী মানুষ ছিলেন। তিনি শিক্ষকতা পেশায় যেমন আলো ছড়িয়েছেন তেমনি অবসরে গিয়েও আলো ছড়িয়েছেন। এমন মানুষের দেখা মেলে না সহজেই। তাঁর কাজ সমাজে উদাহরণ হয়ে থাকবে। পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, কলেজে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় দাঁড়ানো অবস্থায় ঢলে পড়ে যাচ্ছিলেন। কলেজের শিক্ষক জাকির হোসেন জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি এমন মৃত্যু কখনো দেখিনি।
